৩০ জুনের মধ্যে বিনিয়োগ করুন, বাঁচান কষ্টার্জিত করের টাকা!

ট্যাক্স বা কর দেওয়া নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু আপনি কি জানেন, সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করে আপনি আপনার করের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন? হ্যাঁ, আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে আপনি আকর্ষণীয় *ট্যাক্স রিবোট বা কর রেয়াত পাবেন।

তবে মনে রাখবেন, এই সুযোগ আজীবন খোলা থাকে না। ট্যাক্স রিবোটের সুবিধা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই *৩০ জুনের মধ্যে* বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে এবং রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক  উল্লেখিত সেই ৭টি স্মার্ট বিনিয়োগ খাত, যা আপনার ট্যাক্স বাঁচাতে সাহায্য করবে:

১. সরকারি সঞ্চয়পত্র ক্রয় (Savings Certificates)

নিরাপদ এবং নিশ্চিত আয়ের জন্য সরকারি সঞ্চয়পত্র সবসময়ই জনপ্রিয়। সরকারি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে আপনি কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। এটি একই সাথে আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে এবং ট্যাক্স কমাবে।

২. শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ড (Stock Market & Mutual Funds)

আপনি যদি একটু স্মার্টলি রিটার্ন পেতে চান, তবে শেয়ার বাজার আপনার জন্য ভালো বিকল্প। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত যেকোনো কোম্পানির শেয়ার কিংবা অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে আপনি ট্যাক্স রিবোট দাবি করতে পারেন।

৩. ট্রেজারি বন্ড (Treasury Bonds)

ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো সরকারি ট্রেজারি বন্ড বা অন্য কোনো সরকারি বন্ড। এখানে বিনিয়োগ করা টাকা যেমন সম্পূর্ণ নিরাপদ, তেমনই এই বিনিয়োগের বিপরীতে আপনি ট্যাক্স রেয়াত পাবেন।

৪. ডিপোজিট পেনশন স্কিম বা ডিপিএস (DPS)

ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ট্যাক্স বাঁচানোর চমৎকার সুযোগ দেয় ডিপিএস। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে— বার্ষিক সর্বোচ্চ *১,২০,০০০ টাকা* পর্যন্ত ডিপিএস বিনিয়োগের ওপর আপনি কর রেয়াত সুবিধা পাবেন।

৫. প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (Provident Fund - PF)

চাকরিজীবীদের জন্য এটি একটি অন্যতম বড় সুবিধা। আপনার প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রভিডেন্ট ফান্ডে (Recognized PF) কর্মী হিসেবে আপনার নিজস্ব যে অবদান বা কন্ট্রিবিউশন থাকে, তা কর রেয়াতের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

৬. জীবন বীমা প্রিমিয়াম (Life Insurance Premium)

নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য জীবন বীমা করা একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার নিজের, স্ত্রীর কিংবা নাবালক সন্তানের নামে থাকা জীবন বীমার পলিসির যে প্রিমিয়াম আপনি পরিশোধ করছেন, তার মাধ্যমেও ট্যাক্স রিবোট পাওয়া সম্ভব।

৭. সর্বজনীন পেনশন স্কিম (Universal Pension Scheme)

বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম বড় একটি উদ্যোগ হলো সর্বজনীন পেনশন স্কিম। এই স্কিমের অধীনে যেকোনো ক্যাটাগরিতে (যেমন: প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা বা সমতা) আপনি যে কন্ট্রিবিউশন বা চাঁদা দেবেন, তা ট্যাক্স রিবোটের আওতাভুক্ত হবে।

প্রো-টিপ: ৩০ জুন ঘনিয়ে আসার আগেই আপনার বিনিয়োগের খাতগুলো সাজিয়ে ফেলুন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণাদি সংগ্রহ করুন। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে এখনই পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

সতর্কতা: ট্যাক্স সংক্রান্ত যেকোনো জটিল হিসাব-নিকাশ এবং বিস্তারিত নির্দেশনার জন্য একজন সার্টিফাইড ট্যাক্স প্রফেশনাল বা কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

Related Articles